
চীন দেশের এক বৃদ্ধা এক ভিক্ষুকে বিশ বছরেরও অধিক কাল সাহায্য-সহযোগিতা দিয়ে আসছিলেন। তিনি তাকে একটি ছোট্ট কুটির বানিয়ে দিয়েছিলেন এবং ধ্যানাবস্থায় তাকে খাইয়ে পর্যন্ত দিতেন। একসময় বৃদ্ধার সাধ হলো এটা যাচাই করে দেখতে যে এতটা সময়ে ভিক্ষুর কী অগ্রগতি হলো।
অনুসন্ধানের প্রত্যাশাবিন্দুতে পৌঁছুতে তিনি এক তরুণীর সহায়তা নিলেন। বললেন, ‘‘ওর কাছে যাও ও আলিঙ্গন কর। এবং হঠাৎ তাকে জিজ্ঞেস কর, ‘এখন কী হবে ?’’’
বৃদ্ধার কথামতো তরুণীটি ভিক্ষুর কাছে গিয়ে ধীরেসুস্থে হাত বুলিয়ে তাকে আদর করে দিল এবং শেষে এই ব্যাপারে ভিক্ষু এখন কী করতে যাচ্ছে তা জানতে চাইল।
‘শীতের হিমপর্বতে বর্ষীয়ান বৃক্ষেরা বেড়ে ওঠে, সেখানে কি কদাচ কোনো উষ্ণতা থাকে ?’, ভিক্ষু কাব্য করে জবাব দিল।
তরুণীটি ফিরে এসে বৃদ্ধার কাছে ওই ঘটনা সবিস্তারে বর্ণনা করল।
‘ভেবে দেখো, ওকে আমি বিশ বছর ধরে খাওয়াই!, রাগে চিৎকার করে উঠল বৃদ্ধা। সে তোমার প্রয়োজনটাকে মোটেই পাত্তা দিল না ? তোমার অবস্থাটি বিশ্লেষণেরও কোনো উদ্যোগ নিল না ? তার না-হয় সাড়া দেবার দরকার হলো না, কিন্তু শেষপর্যন্ত সে তো করুণারও প্রমাণ দিতে পারত!’
তিনি তৎক্ষণাৎ ভিক্ষুর কুটিয়ে গিয়ে ওটি জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছাই করে দিলেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন