ধনুর্বিদ্যায় একাধিকবার চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরব অর্জনের পর এক দাম্ভিক যুবক দক্ষ তীরন্দাজ হিসেবে সর্বজনবিদিত এক জেনগুরুর প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। প্রথম চেষ্টায় একটি দূরবর্তী বৃষের চোখে আঘাত করে ও দ্বিতীয়বারে ওই তীর বিযুক্ত করে সে তার বিশেষায়িত কারিগরি দক্ষতা প্রদর্শন করল। ‘ওইখানে’, যুবকটি বৃদ্ধ জেনগুরুকে বলল, ‘দেখুন তো পাল্লা দিতে পারেন কিনা’! গুরু ধনুক উত্তোলন না-করে ধীরস্থিরভাবে ওই তীরন্দাজ যুবকের প্রতি তাকে অনুসরণ করে পর্বতারোহণ করতে আহ্বান জানালেন। বৃদ্ধ পণ্ডিতের অভীষ্টের প্রতি কৌতূহলবশত যুবকটি তাকে অনুসরণ করে ঊর্ধ্বারোহণ করল, যতক্ষণ না তারা একটি গভীর খাদের নিকটবর্তী হলো ; যেটিতে ছিল একটি দুর্বল গাছের গুঁড়ির কম্পমান সেতু। শান্ত পদক্ষেপে ওই টলটলায়মান ও অতি বিপজ্জনক সেতুর মাঝামাঝি গিয়ে বৃদ্ধ একটি দূরবর্তী গাছকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নিয়ে ধনুক উত্তোলন করলেন এবং সমস্যামুক্তভাবে একটি তীর ছুড়লেন। ‘এবার তোমার পালা’, সাবধানে পশ্চাতাবরোহণের পর নিরাপদ স্থানে দাঁড়িয়ে তিনি বললেন। আপাতদৃষ্টে ভীতিপ্রদ, সুগভীর ও ইশারারত অতল গহ্বর দেখে ওই যুবক গাছের গুঁড়িতে উঠে কোনো শক্তিই করতে পারল না, যেজন্য তার তীর লক্ষ্যভ্রষ্ট হলো। বৃদ্ধ তার প্রতিযোগীর দুরবস্থা আন্দাজ করলেন এবং বললেন, ‘ধনুর্বিদ্যায় তোমার অনেক দক্ষতা, কিন্তু মন নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা তোমার অত্যল্প, যেজন্য তুমি ব্যর্থ হলে।’
শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০০৯
একাগ্রতা
ধনুর্বিদ্যায় একাধিকবার চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরব অর্জনের পর এক দাম্ভিক যুবক দক্ষ তীরন্দাজ হিসেবে সর্বজনবিদিত এক জেনগুরুর প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। প্রথম চেষ্টায় একটি দূরবর্তী বৃষের চোখে আঘাত করে ও দ্বিতীয়বারে ওই তীর বিযুক্ত করে সে তার বিশেষায়িত কারিগরি দক্ষতা প্রদর্শন করল। ‘ওইখানে’, যুবকটি বৃদ্ধ জেনগুরুকে বলল, ‘দেখুন তো পাল্লা দিতে পারেন কিনা’! গুরু ধনুক উত্তোলন না-করে ধীরস্থিরভাবে ওই তীরন্দাজ যুবকের প্রতি তাকে অনুসরণ করে পর্বতারোহণ করতে আহ্বান জানালেন। বৃদ্ধ পণ্ডিতের অভীষ্টের প্রতি কৌতূহলবশত যুবকটি তাকে অনুসরণ করে ঊর্ধ্বারোহণ করল, যতক্ষণ না তারা একটি গভীর খাদের নিকটবর্তী হলো ; যেটিতে ছিল একটি দুর্বল গাছের গুঁড়ির কম্পমান সেতু। শান্ত পদক্ষেপে ওই টলটলায়মান ও অতি বিপজ্জনক সেতুর মাঝামাঝি গিয়ে বৃদ্ধ একটি দূরবর্তী গাছকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নিয়ে ধনুক উত্তোলন করলেন এবং সমস্যামুক্তভাবে একটি তীর ছুড়লেন। ‘এবার তোমার পালা’, সাবধানে পশ্চাতাবরোহণের পর নিরাপদ স্থানে দাঁড়িয়ে তিনি বললেন। আপাতদৃষ্টে ভীতিপ্রদ, সুগভীর ও ইশারারত অতল গহ্বর দেখে ওই যুবক গাছের গুঁড়িতে উঠে কোনো শক্তিই করতে পারল না, যেজন্য তার তীর লক্ষ্যভ্রষ্ট হলো। বৃদ্ধ তার প্রতিযোগীর দুরবস্থা আন্দাজ করলেন এবং বললেন, ‘ধনুর্বিদ্যায় তোমার অনেক দক্ষতা, কিন্তু মন নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা তোমার অত্যল্প, যেজন্য তুমি ব্যর্থ হলে।’
ঘণ্টাগুরু
জোড়া খরগোশ
এক শিক্ষার্থী তার শিক্ষকের কাছে প্রস্তাব করল, ‘মার্শাল আর্ট বিষয়ে আমি পারঙ্গমতা অর্জন করতে চাই। এজন্য আপনার কাছে শেখার পাশাপাশি ভিন্ন শৈলী রপ্ত করতে আমি আরেকজন শিক্ষকের কাছ থেকেও পাঠ নেব বলে ঠিক করেছি।’ তারপর সে এ ব্যাপারে শিক্ষকের অভিমত জানতে চাইল।‘যে শিকারি একসঙ্গে দুটো খরগোশের পশ্চাদ্বাবন করে, সে দুটোর একটিও ধরতে পারে না।’, শিক্ষক জবাব দিলেন।
কল্পনা
একদা মহান তাও গুরু চুয়াং জু স্বপ্ন দেখলেন যে, তিনি প্রজাপতি হয়ে এদিক-সেদিক পাখা ঝাপটাচ্ছেন। ওই স্বপ্নে তার কোনো ব্যক্তিচেতন ছিল না। তিনি ছিলেন কেবলই একটি প্রজাপতি। সহসাই তিনি জেগে উঠলেন এবং দেখলেন তিনি শুয়ে আছেন, যিনি আবারো একজন ব্যক্তি। তখন তিনি ভাবলেন, ‘আমি কি একজন মানুষ ছিলাম যে কল্পনা করছিল একটি প্রজাপতি হয়ে যাওয়া বিষয়ে, নাকি আমি এখন একটি প্রজাপতি যে কল্পনা করে একজন মানুষ হওয়া বিষয়ে ?’
পুস্তকাদি
আত্মবাদ
চীন দেশের তাঙ রাজবংশের প্রধানমন্ত্রী তার বাগ্মিতা ও সামরিক নেতৃত্বে সাফল্যের কারণে একজন জাতীয় বীর হিসেবে খ্যাতিমান ছিলেন। কিন্তু খ্যাতি, ক্ষমতা ও প্রাচুর্য সত্ত্বেও তিনি নিজেকে খুবই ব্রাত্য জ্ঞান করতেন এবং একজন ধর্মপ্রাণ সাধারণ বৌদ্ধের মতো জীবনযাপন করতেন। প্রায়ই তিনি তার প্রিয় একজন শিক্ষকের কাছে জেন শিখতে যেতেন এবং দুজন খুব ভালো সময় কাটাতেন। সত্যি বলতে কী, তাদের সম্পর্কের ওপরে প্রধানমন্ত্রিত্বের কোনো প্রভাব প্রতীয়মান হতো না, যেজন্য একজনকে শ্রদ্ধেয় শিক্ষক এবং আরেকজনকে বিনয়ী ছাত্র বলেই মনে হতো।এরকম এক আড্ডায়, একদিন, প্রধানমন্ত্রী তার শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলেন, ‘মহাত্মন, বৌদ্ধ মতানুযায়ী আত্মবাদ ব্যাপারটা ঠিক কী ?’ শিক্ষকের চোখমুখ মুহূর্তে রক্তবর্ণ ধারণ করল এবং তিনি অত্যন্ত হীনকর ও অপমানজনক স্বরে প্রত্যুত্তর করলেন, ‘এটা কী ধরনের বেয়াদবের মতো প্রশ্ন!’
এই অনাকাঙ্ক্ষিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী খুবই নাখোশ ও ক্রুদ্ধ হলেন। জেনশিক্ষক এরপর মুচকি হাসলেন এবং বললেন, ‘এই হলো, মান্যবর, আত্মবাদ।’
স্রোতের অনুকূলে
একটি তাও গল্পে একবার একজন বৃদ্ধলোক দুর্ঘটনাবশত নদীতে পড়ে যান, তার পতনস্থানটি ছিল অনেক ঊঁচু থেকে বিপজ্জনকভাবে প্রবাহিত একটি প্রস্রবনের উৎসমুখ। প্রত্যক্ষদর্শীরা তার জীবন নিয়ে শংকিত হয়ে পড়ল। কিন্তু বিস্ময়করভাবেই তিনি প্রবাহের একেবারে শেষবিন্দু থেকে অক্ষতভাবে উঠে এলেন। লোকজন ছুটে এসে তার কাছে জানতে চাইল যে কীভাবে এরকম অবিশ্বাস্য একটি পরিণতি তার ক্ষেত্রে সম্ভব হলো। ‘জল আমার সঙ্গে নয়, বরং আমিই জলের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছি। ভাবনাচিন্তা না-করে আমি জলের বাঁক-মোচড়ের অনুকূলে মুচড়ে গেছি। ঘূর্ণিতে নিক্ষিপ্ত হয়ে আবার ঘূর্ণির সাথেই বেরিয়ে এসেছি। আমার বেঁচে থাকার রহস্য মোটামুটি এই।’, বৃদ্ধ বিবৃত করলেন।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)


